শুক্রবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৬

আসুন জানি ''আমাদের রাজশাহীর'' জানা অজানা তথ্য

আসুন জানি ''আমাদের রাজশাহীর'' জানা অজানা তথ্য পর্ব : ১

আচ্ছা আমার মত কি আর কারো জানতে ইচ্ছা হই ,যে নিজ এলাকার নাম যেমন আমাদের রাজশাহীর কথায় বলি, রাজশাহীর নাম কেনো, কিভাবে কবে থেকে রাজশাহী হলো । রাজশাহী না হয়ে তো অন্য নাম ও হতে পারত এর পিছনের ইতিহাস টা কি জানা যাবে না । খুব ইচ্ছা হোত জানতে কিন্তু কি করে জানব :((:((  
হঠাত ভাবলাম আমিতো এখন ভার্চুয়াল জগতের বাসিন্দা B-)( মানে যতক্ষণ লাইন-এ থাকি;)) আমি যা ইচ্ছা তাই জানতে পারব, অবশেষে রাজশাহীর নামকরণ টাও জানা হলো ।:D

আসুন জানি রাজশাহীর নামকরণ যেভাবে হলো 

রাজশাহী নামটির উৎপত্তি সম্পর্কে আলোচনা করতে গেলেই কয়েক শতাব্দী পূর্বে ফিরে যেতে হয়। এ শহরের প্রাচীন নামটি ছিল মহাকাল গড়। পরে রূপান্তরিত হয়ে দাঁড়ায় রামপুর-বোয়ালিয়া থেকে রাজশাহী নামটির উদ্ভব কিভাবে হলো এর সুস্পষ্ট কোন ব্যাখ্যা নাই । ব্রিটিশ আমলের প্রাথমিক যুগের ইতিহাসেও রাজশাহী নামক কোন জনপদ বা স্থানের উল্লেখ নাই । অনেকে মনে করেন, এই জনপদ একদা বহু হিন্দু, মুসলিম, রাজা, সুলতান আর জমিদার শাসিত ছিল বলে নামকরণ হয়েছে রাজশাহী। ঐতিহাসিক ব্লকম্যানের (Bolch Mann) মতে, খ্রিষ্টীয় ১৫শ শতকে গৌড়ের মুসলিম সালতানাত এই জেলার ভাতুড়িয়ার জমিদার রাজা গণেশ কতৃর্ক আত্মসাতের সময় থেকে রাজশাহী নামের উদ্ভব হয়েছে। তিনি দাবী করেন, গৌড়ের সুলতান মাহমুদ শাহ বারবাক শাহ প্রভৃতির নামানুসারে যেমন রাজশাহীর আশে পাশে মাহমুদ শাহী, বারবাকশাহী পরগনার উদ্ভর হয়েছে। একইভাবে মুসলিম মসনদে আরোহণকারী হিন্দু রাজা শাহ বলে পরিগণিত হওয়াই এই এলাকার নামকরণ হয়েছে রাজশাহী। হিন্দু রাজ আর ফারসী শাহী এই শব্দ দুটির সমন্বয়ে উদ্ভব হয়েছে মিশ্রজাত শব্দটির। কিন্তু ব্লকম্যানের অভিমত গ্রহণে আপত্তি করে বেভারিজ (Beveridge) বলেন, নাম হিসেবে রাজশাহী অপেক্ষা প্রাচীন এবং এর অবস্থান ছিল রাজা গণেষের জমিদারী ভাতুড়িয়া পরগনা থেকে অনেক দূরে। রাজা গণেশের সময় এই নামটির উদ্ভব হলে তার উল্লেখ টোডরমল প্রণীত খাজনা আদায়ের তালিকায় অথবা আবুল ফজলের আইন-ই-আকবরী নামক গ্রন্থে অবশ্যই পাওয়া যেত। ডব্লিউ ডব্লিউ হান্টারের মতে, নাটোরের রাজা রামজীবনের জমিদারী রাজশাহী নামে পরিচিত ছিল এবং সেই নামই ইংরেজরা গ্রহণ করেন এই জেলার জন্য। এনেকে এসব ব্যাখাকে যথার্থ ইতিহাস মনে করেননা। তবে ঐতিহাসিক সত্য যে, বাংলার নবাবী আমল ১৭০০ হতে ১৭২৫ সালে নবাব মুশির্দকুলী খান সমগ্র বাংলাদেশকে রাজস্ব আদায়ের সুবিধার জন্য ১৩ (তের)টি চাকলায় বিভক্ত করেন। যার মধ্যে ‘চাকলা রাজশাহী' নামে একটি বৃহৎ বিস্তৃতি এলাকা নির্ধারিত হয়। এর মধ্যে প্রবাহিত পদ্মা বিধৌত ‘রাজশাহী চাকলা' কে তিনি উত্তরে বতর্মান রাজশাহী ও দক্ষিণে মুর্শিদাবাদের সঙ্গে অপর অংশ রাজশাহী নিজ চাকলা নামে অভিহিত করেন। প্রথমে সমগ্র চাকলার রাজস্ব আদায় করতেন হিন্দু রাজ-জমিদার উদয় নারায়ণ। তিনি ছিলেন মুশিদ কুলির একান্ত প্রীতিভাজন ব্যক্তি। যে জন্য নবাব তাকে রাজা উপাধী প্রদান করেন। দক্ষিণ চাকলা রাজশাহী নামে বিস্তৃত এলাকা যা সমগ্র রাজশাহী ও পাবনার অংশ নিয়ে অবস্থিত ছিল, তা ১৭১৪ সালে নবাব মুর্শিদকুলী খান নাটোরের রামজীবনের নিকট বন্দোবস্ত প্রদান করেন। এই জমিদারী পরে নাটোরের রাণী ভবানীর শাসনে আসে ও বহু অঞ্চল নিয়ে বিস্তৃতি লাভ করে। রামজীবন প্রথম নাটোর রাজ ১৭৩০ সালে মারা গেলে তার দত্তক পুত্র রামকান্ত রাজা হন। ১৭৫১ সালে রামকান্তের মৃত্যুর পরে তার স্ত্রী ভবানী দেবী রাণী ভবানী নামে উত্তরাধীকারী লাভ করেন। অনেকের মতে, প্রথম রাজা উদয় নারায়ণের উপর প্রীতি বশত এই চাকলার নাম রাজশাহী করেন নবাব মুশিদকুলী খান। কিন্তু ঐতিহাসিক অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়র মতে, রাণী ভবানীর দেয়া নাম রাজশাহী । অবশ্য মিঃ গ্রান্ট লিখেছেন যে, রাণী ভবানীর জমিদারীকেই রাজশাহী বলা হতো এবং এই চাকলার বন্দোবস্তের কালে রাজশাহী নামের উল্লেখ পাওয়া যায়।

[sb]হজরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) এর মাজার ও ইতিহাস 

বহু পীর সাধকের পুণ্যভুমি রাজশাহী মহানগরী। যখন এই জনপদের মানুষ কুসংস্কার আর অপপ্রথার নিবিড় অন্ধকারের অতল গহ্বরে ডুবে থেকে নানান কুকর্মে লিপ্ত ছিল, দেব-দেবীর নামে নরবলি দেয়া হতো, মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ছিল প্রকট, তখন থেকেই এ সকল পীর সাধকের আগমন ঘটতে থাকে সুদূর মধ্য প্রাচ্য ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে। তারা অবোধ মানুষের মাঝে জ্ঞানের শিখা ছড়ানোর মহৎ উদ্দেশ্য ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের প্রতিজ্ঞায় ও মনুষ্য সম্প্রদায়ের কল্যাণে জীবনের সব সময়টুকু ক্ষয় করে দেন। তাদের ডিঙ্গাতে হয় নানা প্রতিকূলতার দেয়াল। এমনকি প্রাণ বিসর্জনও দিতে হয় কাউকে কাউকে। এ সকল মহৎ প্রাণের অন্যতম পদ্মা পাড়ে চিরশায়িত হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ)।
কাজী রওশ আলী সম্পাদিত বিভাগ গাইড রাজশাহী গ্রন্থে ও হজরত শাহ মখদুম (রহঃ) দরগাহ পাবলিক ওয়াকফ এস্টেট ট্রাস্টি বোর্ড প্রকাশিত ইতিহাস ও ঐতিহ্য গ্রন্থে অধ্যাপক মুহম্মদ আবু তালিব একখানি প্রাচীন বাংলা গ্রন্থের কলমী পুথি। হজরত শাহ মখদুম (রহঃ) এর জীবনী তোয়ারিখ প্রবন্ধে হজরত শাহ মখদুম (রহঃ) এর প্রকৃত নাম হজরত সৈয়দ আব্দুল কুদ্দুস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে প্রবীণ লেখক অধ্যাপক এবনে গোলাম সামাদ তার রাজশাহীর ইতিবৃত্ত গ্রন্থে বলেন, "এই পীরের (হজরত শাহ মখদুম রহঃ) আসল নাম কি ছিল, তা নিয়েও আছে বিতর্ক। তিনি সাধারণভাবে রাজশাহী বাসীর কাছে বাবা মখদুম নামেই পরিচিত।" তিনি আরো উল্লেখ করেন, মখদুম শব্দটি আরবী। শব্দগত অর্থে শিক্ষক, জ্ঞানী অথবা পরিচালক। তবে তিনি আধ্যাত্মিক সাধক, জ্ঞানী, কামিলিয়াত ছিলেন এই বিষয়ে কেউ দ্বিমত প্রকাশ করেনি। বিভিন্ন গ্রন্থে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায়, হজরত শাহ মখদুম (রহঃ) ছিলেন বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) এর পৌত্র এবং আজাল্লা শাহ্ এর ২য় পুত্র। তিনি ৬১৫ হিজরীর ২ রজব বাগদাদে জন্ম গ্রহণ করেন। রুপোশ তার উপাধী। শব্দটি ফারসী। যার অর্থ মুখ আবরণকারী। তার উপাধি থেকে একথা বোঝা যায় যে, সাধারণ মানব বৈশিষ্ট্য ছাড়াও তার মধ্যে অসাধারণ ক্ষমতা লুকায়িত ছিল। হজরত শাহ মখদুম (রহঃ) এর রাজশাহী

আগমনের অন্তরালে আছে এক বিস্তৃত ইতিহাস।
১২৫৯‌ খ্রিষ্টব্দে মোধল বীর হালাকু খান বাগদাদ আক্রমণ করলে বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানীর বংশধরগণ বাগদাদ থেকে কাবুল, কান্দাহার, পারস্য ও পাক ভারতের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় গ্রহণ করে। হযরত শাহ্ মখদুম রুপোশ (রহঃ) ‌এর পিতা আজ্জালা শাহ্ দিল্লীতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। তার উন্নত চরিত্র ও গুণাবলীর প্রতি মুগ্ধ হয়ে দিল্লীর সম্রাট ফিরোজ শাহ্ তার কাছে বায়েত হন। পিতার সহচার্যে তিন পুত্র সৈয়দ মুনির উদ্দীন আহমেদ (রহঃ), হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ), ও সৈয়দ আহমদ তম্বরী (রহঃ) অধ্যাত্মিক সাধনায় সমৃদ্ধ লাভ করেন। হালাকু খানের মৃত্যুর পর শাহ আজ্জালা বাগদাদে ফিরে গেলেও তার পুত্রগণ ইসলামের বাণী প্রচারের মাধ্যমে মানুষকে হেদায়েতের উদ্দেশ্যে অনুচরবর্গসহ বাংলায় আগমন করেন। তখন রাজশাহীর নগরীর নাম ছিল মাহকাল গড়। এখানে মাহকাল দেও এর বিখ্যাত মন্দিরে নরবলি দেওয়া হতো। তার স্মৃতি এখনও হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) এর পবিত্র দরগা শরীফে রক্ষিত আছে। মহাকাল গড়ে সে সময় বহু রকম দেও এর প্রতিমূর্তি ও মঠ-মন্দিরে পূর্ণ ছিল। হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) রাজশাহী আগমনের ১০ বছর পূর্বে হযরত তুরকান শাহ্ ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে ১২৭৯ খ্রিষ্টাব্দ মহাকাল গড়ে আগমন করেন। ঐ সময়ে রাজ্য শাসন করতেন অংশুদেও চান্তভন্ডী বর্মভোজ ও অংশুদেও খেজ্জুর চান্দ খড়গ বর্মগুজ্জুভোজ। মুসলিম বিদ্বেষী এই রাজাগণের দ্বারা তুরকান শাহ্ ও তার অনুচরগণ শহীদ হন। তার মাজরও দরগা পাড়ায় আছে। তুকান শাহ্‌ 'র আগমনের পূর্বেও কতিপয় মুসলমান ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে মহাকাল গড়ে আগমন করেন এবং শহীদ হন। এসকল হত্যাকন্ডের প্রতিশোধ ও ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) ১২৮৯ খ্রিষ্টাব্দে এ দেশ আগমন করে বাঘা নামক স্থানে উপস্থিত হন এবং ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি যে স্থানে কেল্লা নির্মাণ করেছিলেন তা মখদুম নগর নামে খ্যাত। বাঘা ছিল তৎকালীন সময়ের প্রসিদ্ধ নগরী। এই নগরীর সাথে সুলতানগণের প্রশাসনিক যোগসূত্র ছিল। গৌড়ের সুলতান হোসেন শাহ্ র পুত্র নসরৎ শাহ্ ৯৩০ হিজরিতে বাঘা শরীফ পরিদর্শন করেন এবং একটি মসজিদ ও একটি পুকুর খনন করার নির্দেশ দেন। দিল্লীর বাদশাহ শাহজাহান মখদুম নগরীতে অবস্থিত মখদুম দরগাহ সংরক্ষণের জন্য ৪২টি মৌজা দান করেছিলেন। হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) কর্তৃক মহাকালগড় দখল সম্পর্কে বেশ লোমহর্ষক ও রহস্যময় ঘটনা শোনা যায়। কথিত আছে মহাকাল গড়ের এক নাপিতের ৩টি পুত্র সন্তান ছিল। তন্মধ্যে দুটি নরবলি হওয়ার পর শেষ পুত্রটিও নরবলি দেবার সিদ্ধান্ত হয়। একথা জানার পর নাপিত দম্পতি দুঃখে শোকে ব্যাকুল হয়ে পড়েন এবং নিরুপায় হয়ে গোপনে মখদুম নগরে উপস্থিত হন। হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) বিস্তর ঘটনা শোনার পর বলেন, যাও তোমার সন্তানসহ নদীর ধারে অপেক্ষা কর আমার সাক্ষাৎ পাবে।

এই নির্দেশ পাওয়ার পরে বেশ কদিন নাপিত দম্পতি নদীর তীরে অপেক্ষা করেও হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) সাক্ষাৎ না পেয়ে বলি হবার পূর্ব রাতে ডুবে মরার ইচ্ছায় পদ্মার পানিতে নামতেই হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) পদ্মায় কুমিরে চড়ে আবির্ভূত হন এবং নাপিত দম্পত্তির সাথে কিছু কথা বলেন এবং পুত্র বলি না হওয়ার ও দেওরাজ ধ্বংস হওয়ার আশ্বাস দিয়ে কুমিরে চড়েই অন্তর্ধান হন। হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) এর জীবনী তোয়ারিখে উল্লেখ আছে, মহাকালগড়ের মন্দির প্রাঙ্গণে প্রাচীর বেষ্টিত যাদুকুন্ড কূপ ছিল। দেও রাজাদ্বয় তা দ্বারা যাদুবিদ্যা পরিচালনা করে অসম্ভব অলৌকিক কার্য সফল করে নিজেকে ঈশ্বর হিসেবে দাবি করত। হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) ঐ নাপিতের কাছে সন্ধান নিয়ে যাবার কালে ঐ স্থান পরিদর্শন করে ঐসব যাদুগুণ নষ্ট করে যান। পরে ঐ যাদু স্থান উৎঘাটন করা হয়। তার তলদেশ হতে বিভিন্ন দেও পুতুল, নানা প্রকার জিনিস, অস্থী এবং ১টি জলীয় বৃক্ষ বের হয়েছিল। বর্তমানে ঐ স্থান পুকুর রুপে রয়েছে।

রাত অবসানের পর সকালে নাপিত পুত্রকে বলি দেবার জন্য দেও মন্দিরে আনা হলো। কিন্তু খাড়ার ঘাতে নাপিত পুত্র বলি হওয়া তো দূরের কথা বিন্দুমাত্র কষ্টও অনুভব করল না। বরং মহাকাল প্রতিমা পড়ে যাবার মত লেতে শুরু করল। দেওরাজের নিকট এ সংবাদ পৌছালে সে ছুটে এসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এই নরে দোষ আছে বলে নাপিত পুত্রকে ছেড়ে দেয়। এর কয়েক দিন পর হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) দেওরাজ্যের বিরুদ্ধে মহাকালগড় জয়ের উদ্দেশ্যে মওলাং ফকির, দরবেশ, গাজি দল পাঠিয়েছিলেন। পর পর তিনবার যুদ্ধ করার পর হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) মহাকালগড়ে নরবলি প্রথার পরিবর্তে ইসলামের ঝান্ডা উড়িয়েছিলেন। প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল বর্তমান ঘোড়ামারায়। এই যুদ্ধে দেও ধর্মাবলম্বীসহ অনেক ফকিরগণও মারা পড়েছিলেন এবং তাদের ঘোড়াও শহীদ হয়েছিত। ঘোড়া শহীদের কারনেই স্থানটির নামকরণ হয় ঘোড়ামারা। দ্বিতীয় যুদ্ধে হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) সাহেব মওলাং ফকির দরবেশকে গাজী প্রেরণ করেছিলেন এবং তিনি স্বয়ং বহু মওলাং ফকির সঙ্গে করে মহাকালগড়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। যুদ্ধে বহু দৈত্য ধর্মাবলম্বী ধরাশায়ী হয়েছিল।
অনেক মঠ-মন্দির ভেঙ্গে চুরমার ও লুণ্ঠিত হয়েছিল। দৈত্যরাজ স্বপরিজনে পালিয়েছিল এবং হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) বিজয়ী হয়ে মখদুম নগরে প্রত্যাগমন করেছিলেন। এরপর বনবাসী দৈত্যরাজের দৈত্য ধর্মাবলম্বীরা পুনরায় সমবেত হয়ে তীর্থস্থান উদ্ধারের জন্য মাহাকালগড়ে উপস্থিত হয়েছিল। এই সংবাদ পেয়ে হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) পুনরায় মহাকালগড়ে আগমন করে সমবেত প্রতিপক্ষ দলকে পাক পায়ের মাত্র ১ পাট খড়ম ছুড়ে ধরাশায়ী করেছিলেন। অবশেষে পরিজনসহ দেওরাজ তার পায়ে পড়ে আত্মসমর্পণ করেছিল ও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল। হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) মহাকাল দেও মন্দিরেই আস্তানা স্থাপন করেছিলেন। পানি পথে তার ছিল কুমীর বাহন, শুন্য পথে বসিবার পীড়ি আসন বাহন, শুস্ক পথে সিংহ ও বাঘ্র বাহন। তার অলৌকিক ঘটনা, বোজর্গী কেরামত দেখে অনেকে ঈমান এনে মুসলমান হয়েছিল। অনেকে সভ্য হিন্দু সমাজে নীত হয়েছিল ও অনেকে তাকে বড় যাদুগরী বলে প্রচার করেছিলন।
হযরত শাহ মখদুম রুপোশ (রহঃ) বাংলায় দেওজাতিকে ইসলামের সমহান আদর্শে দিক্ষীত করার উদ্দেশ্যে ১২৮৯ খ্রিষ্টাব্দে রাজশাহী বা সেকালের মহাকালগড়ে আগমন করে সফল নেতৃত্ব দান করে ১৩৩১ খ্রিষ্টাব্দে পরলোক গমন করেন। তার মৃত্যর পরও দরগা শরীফকে কেন্দ্র করে ইসলাম প্রচারের কাজ চলতে থাকে। তার শিষ্য ও অনুসারীগণের মধ্যে অন্যতম হিসেবে যাদের নাম পাওয়া যায় তারা হলেন- হযরত শাহ্ আব্বাস (রহঃ) (মখদুম নগরে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তার মাজার বিলীন হয়ে গেছে), শাহ্ রকম আলী (রহঃ) (পুঠিয়া-বিড়ালদহ), হযরত দিলাল বোখারী (রহঃ) (আলাইপুর, বাঘা), হযরত শাহ্ সুলতান (রহঃ) (সুতানগঞ্জ, গোদাগাড়ী)




নাচোল উপজেলা

নাচোল উপজেলা


নাচোল উপজেলা (চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা)আয়তন: ২৮৩.৬৮ বর্গ কিমি। অবস্থান: ২৪°৩৮´ থেকে ২৪°৫১´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°১৫´ থেকে ৮৮°২১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। সীমানা: উত্তর-পশ্চিমে গোমস্তাপুর উপজেলা, দক্ষিণ নবাবগঞ্জ সদর উপজেলা, পূর্বে তানোর ও নিয়ামতপুর উপজেলা। এ অঞ্চলের মাটি ধান উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত সহায়ক।
জনসংখ্যা ১৩২৩০৮; পুরুষ ৬৭৪০৬, মহিলা ৬৪৯০২। মুসলিম ১১৭১৮৩, হিন্দু ১২০৪৬, বৌদ্ধ ১৯৩৫, খ্রিস্টান ২১ এবং অন্যান্য ১১২৩। এ উপজেলায় সাঁওতাল, মুন্ডা, ওরাওঁ, মাহালী প্রভৃতি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।
জলাশয় প্রধান নদী: মহানন্দা। লক্ষ্মীকোল বিল ও দামাস বিল উল্লেখযোগ্য।
প্রশাসন নাচোল থানা গঠিত হয় ১৯১৮ সালে এবং থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৪ সালে।
উপজেলা
পৌরসভাইউনিয়নমৌজাগ্রামজনসংখ্যাঘনত্ব(প্রতি বর্গ কিমি)শিক্ষার হার (%)
শহরগ্রামশহরগ্রাম
-২০১১৯৭১০৪০৭১২১৯০১৪৬৬৫৮.৬৩৮.৭
উপজেলা শহর
আয়তন (বর্গ কিমি)মৌজালোকসংখ্যাঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিমি)শিক্ষার হার (%)
৫.১৫১০৪০৭২০২১৫৮.৬
ইউনিয়ন
ইউনিয়নের নাম ও জিও কোডআয়তন (একর)লোকসংখ্যাশিক্ষার হার (%)
পুরুষমহিলা
কসবা ৩৮১৫১৮৩১৫৬৯৫১৫০০০৩৯.৯৬
নাচোল ৫৭১৮২৫০২৪১৪৮২৩৪৭৬৪৫.৯১
নিজামপুর ৭৬১৮৪৮৯১২৮৫৫১২৫৩২৪১.৯৮
ফতেহপুর ১৯১৮১৭৬১৪৭০৮১৩৮৯৪২৯.৮১
সূত্র আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
NacholeUpazila.jpg
প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ আলী শাহপুর মসজিদ (ফতেহপুর), কলিহার জমিদার বাড়ি ও মল্লিকপুর জমিদার বাড়ি উল্লেখযোগ্য।
ঐতিহাসিক ঘটনাবলি ইলা মিত্রের নেতৃত্বে ১৯৪৯ সালে  তেভাগা আন্দোলন সংঘটিত হয়। নাচোলের কৃষকবৃন্দ ছিল এ আন্দোলনের প্রাণ। প্রধানত সাঁওতাল কৃষকরা ছিল অগ্রগামী। এ আন্দোলন ‘নাচোল বিদ্রোহ’, ‘তেভাগা আন্দোলন’, ‘নাচোলের কৃষক আন্দোলন’ প্রভৃতি নামে পরিচিত।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উজিরপুর দরগা, নাচোল বাজার মন্দির ও দেউপাড়া মঠ।
শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান  গড় হার ৪০.৩%; পুুরুষ ৪২.৬%, মহিলা ৩৮.০%। কলেজ ৬, কারিগরি কলেজ ৩, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩৪, প্রাথমিক বিদ্যালয় ৭৭, মাদ্রাসা ১৮। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: নাচোল ডিগ্রি কলেজ (১৯৭২), নাচোল মহিলা কলেজ (১৯৯৩), নাচোল উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৫৭), নাচোল প্রাথমিক বিদ্যালয়।
জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৭৩.২৭%, অকৃষি শ্রমিক ৪.৯১%, শিল্প ০.২৯%, ব্যবসা ৯.৩৮%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ১.২৫%, চাকরি ৩.৫৪%, নির্মাণ ০.৬৭%, ধর্মীয় সেবা ০.০৯%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ০.০৮% এবং অন্যান্য ৬.৫২%।
কৃষিভূমির মালিকানা ভূমিমালিক ৪৩.৩৭%, ভূমিহীন ৫৬.৬৩%। শহরে ৪৫.৭৮% এবং গ্রামে ৪৩.১৭% পরিবারের কৃষিজমি রয়েছে।
প্রধান কৃষি ফসল ধান, গম, ডাল, শাকসবজি।
বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি চিনা, কোদা, ম্যারা (ডাল জাতীয়)।
প্রধান ফল-ফলাদি  আম, কাঁঠাল, লিচু, জাম, তাল, নারিকেল, তরমুজ, কুল।
যোগাযোগ বিশেষত্ব পাকারাস্তা ১৩১ কিমি, আধা-পাকারাস্তা ৪.৪০ কিমি, কাঁচারাস্তা ৩৬৯ কিমি; নৌপথ ৩.২৩ নটিক্যাল মাইল; রেলপথ ১৯ কিমি।
বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় সনাতন বাহন পাল্কি, টমটম (ঘোড়ার গাড়ি)।
কুটিরশিল্প মৃৎশিল্প, বাঁশের কাজ, বেতের কাজ।
হাটবাজার ও মেলা হাটবাজার ১২, মেলা ৬। নাচোল হাট, রাজবাড়ী হাট, সোনাইচন্ডী হাট, মল্লিকপুর হাট, নিজামপুর হাট, ভেরেন্ডী গোলাবাড়ী হাট এবং নাচোল বাজারের দুর্গাপূজার মেলা ও বৈশাখী মেলা উল্লেখযোগ্য।
প্রধান রপ্তানিদ্রব্য   ধান।
বিদ্যুৎ ব্যবহার এ উপজেলার সবক’টি ইউনিয়ন পল্লিবিদ্যুতায়ন কর্মসূচির আওতাধীন। তবে ১৮.১৬% পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
পানীয়জলের উৎস নলকূপ ৯৪.৩২%, ট্যাপ ২.৪১%, পুকুর ০.৪৫% এবং অন্যান্য ২.৮২%।
স্যানিটেশন ব্যবস্থা এ উপজেলার ৯.৭৭% (গ্রামে ৭.৬৫% এবং শহরে ৩৫.৮৪%) পরিবার স্বাস্থ্যকর এবং ৪২.১৯% (গ্রামে ৪২.১৬% এবং শহরে ৪২.৬২%) পরিবার অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। ৪৮.০৪% পরিবারের কোনো ল্যাট্রিন সুবিধা নেই।
স্বাস্থ্যকেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ৪, হাসপাতাল ১, ক্লিনিক ২, হোমিওপ্যাথী ডিসপেনসারী ১২০।
এনজিও ব্র্যাক, প্রশিকা, আশা, কারিতাস, বার্ড।  [মাযহারুল ইসলাম তরু]
তথ্যসূত্র   আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো; নাচোল উপজেলা সাংস্কৃতিক সমীক্ষা প্রতিবেদন ২০০৭।

How to we go small sona mosque


Small Sona Mosque How can we go: About 35 km from the district .. CNG bus, or you can go on. About 45 m. It takes about 1 hour. Short description: Small Sonamasjid "architectural jewel of the Sultanate 'called. It is the capital of Gaur-Lakhnauti Ferozepur koyatarsa ​​tahkhana complex Kotwali Darwaza half a kilometer to the south-east and is located about three kilometers to the south. A huge lake across the southern part of the western US. Archaeology of Bangladesh adhiptara some distance to the west of the mosque several years ago by a modern two-storey guest house is built. Guest House and the mosque through the north-south road in a modern gone. Kotwali Darwaza old road, and once it appears in the southern suburb of the city of Gaur-Lakhnauti connect with them.  
According to an inscription placed on the surface of one of the main entrance of the Majlis-e-majalisa Majlis Mansur Wali Muhammad bin Ali, the mosque was built. The inscription bearing the exact date of the construction of the characters have been removed. However, it is obvious from the name of Sultan Alauddin Hussain Shah, the mosque of his reign (1494-1519) built upon a time. Location: Shahabajpur Union, Shibganj, Chapainawabganj.

ছোট সোনামসজিদ যাওয়ার উপায়


চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রায় ৩৫ কি.মি.। বাস অথবা সিএনজি-তে যাওয়া যায়। প্রায় ৪৫ মি. থেকে ১ ঘন্টা সময় লাগে।
সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:
ছোট সোনামসজিদ ‘সুলতানি স্থাপত্যের রত্ন’ বলে আখ্যাত। এটি বাংলার রাজধানী গৌড়-লখনৌতির ফিরোজপুর কোয়াটার্স এর তাহখানা কমপ্লেক্স থেকে অর্ধ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং কোতোয়ালী দরওয়াজা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। বিশাল এক দিঘির দক্ষিণপাড়ের পশ্চিম অংশ জুড়ে এর অবস্থান। মসজিদের কিছু দূর পশ্চিমে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিপ্তর কর্তৃক কয়েক বছর পূর্বে নির্মিত একটি আধুনিক দ্বিতল গেষ্ট হাউস রয়েছে। গেষ্ট হাউস ও মসজিদের মধ্য দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে একটি আধুনিক রাস্তা চলে গেছে। মনে হয় রাস্তাটি পুরনো আমলের এবং একসময় এটি কোতোয়ালী দরওয়াজা হয়ে দক্ষিণের শহরতলীর সঙ্গে গৌড়-লখনৌতির মূল শহরের সংযোগ স্থাপন করেছিল।

প্রধান প্রবেশ পথের উপরিভাগে স্থাপিত একটি শিলালিপি অনুযায়ী জনৈক মজলিস-ই-মাজালিস মজলিস মনসুর ওয়ালী মুহম্মদ বিন আলী কর্তৃক মসজিদটি নির্মিত হয়। শিলালিপিতে নির্মানের সঠিক তারিখ সম্বলিত অক্ষরগুলি মুছে গেছে। তবে এতে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ এর নামের উল্লেখ থেকে এটা সুস্পষ্ট যে, মসজিদটি তার রাজত্বকালের (১৪৯৪-১৫১৯) কোন এক সময় নির্মিত।
অবস্থান: 
শাহবাজপুর ইউনিয়ন, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।